ব্যাংক খাত সংস্কারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক একীভূতকরণের প্রস্তাব
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এবার দুর্বল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক একীভূত করার সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তাঁর মতে, সোনালী ব্যাংকের পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে, তাই দুর্বল কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে এর সঙ্গে একীভূত করলে নতুন করে সরকারি অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।
বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গভর্নর এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা, অর্থ সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জানানো হয়, ইতোমধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে।
খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়—
- ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের মার্চে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ কোটিতে।
- রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বর্তমানে ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের ৩৬.৫ শতাংশ।
- এর মধ্যে জনতা ব্যাংক সর্বাধিক খেলাপি ঋণে শীর্ষে (৭০ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা), যা ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭৫%।
- অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের অবস্থাও উদ্বেগজনক।
সরকারের ভূমিকা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। একীভূত হওয়ার পর নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিকভাবে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্তভাবে পরিচালনা করতে হবে। নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার হাতে।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থা
বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের দুই-তৃতীয়াংশ। বিশেষ করে পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকের (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম) অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
এগুলো একীভূত করতে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপোজিটরি ইনস্যুরেন্স ফান্ড থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে। তিন বছরের মধ্যে এই নতুন প্রতিষ্ঠান বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব অনুযায়ী, দুর্বল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করলে খাতের স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়ও এড়ানো যাবে। তবে এ প্রক্রিয়া সফল করতে হলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দূর করে সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক খাত সংস্কার, খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, বেসরকারি ব্যাংক সংকট, ব্যাংক একীভূতকরণ বাংলাদেশ

0 Comments