Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

​আর্থিক সূচকে আইএফআইসি ব্যাংকের আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি: ছয় মাসের সাফল্য ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

​আর্থিক সূচকে আইএফআইসি ব্যাংকের আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি: ছয় মাসের সাফল্য ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

আইএফআইসি


​ব্যাংকিং খাতে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হলেও সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সুদৃঢ় পদক্ষেপ যে সুফল আনতে পারে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আইএফআইসি ব্যাংক (IFIC Bank)। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই (জানুয়ারি – জুন ২০২৬) ব্যাংকটি আর্থিক সূচকের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে।

​খেলাপি ঋণ উদ্ধার, আমানত বৃদ্ধি, গ্রাহক আস্থা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারে ব্যাংকটি ঠিক কেমন পারফর্ম করেছে, তা নিয়ে আজকের আলোচনায় বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক।

​১. আমানত বৃদ্ধি ও গ্রাহক আস্থার প্রতিফলন

​ব্যাংকের প্রধান মূলধন হলো গ্রাহকের আস্থা। বিগত ছয় মাসে ব্যাংকটিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক! যার ফলে মোট গ্রাহক সংখ্যা ২১ লাখ ৪৮ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৯১ হাজারে

  • মোট আমানত: ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকটির মোট আমানত ছিল ৫১,৭১৫ কোটি টাকা, যা ২০২৬ সালের জুন শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩,৩৫০ কোটি টাকারও বেশি
  • রিটেইল আমানত: ৪০,৬৮০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ৪২,৫৫০ কোটি টাকায়
  • ব্যক্তিগত আমানতের প্রভাব: লক্ষণীয় বিষয় হলো, মোট আমানতের প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাংকিং সেবার ওপর শক্তিশালী আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।


​২. খেলাপি ঋণ আদায়ে জোরদার পদক্ষেপ

​ঋণ পুনরুদ্ধারে আইএফআইসি ব্যাংক কৌশলগত উদ্যোগ, সমঝোতা ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

  • ২০২৫ সালের সাফল্য: গত বছর ব্যাংকটি মোট প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকার ঋণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল।
  • ২০২৬-এর প্রথম ৬ মাস: এই সফলতার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই আরও ১,৫০০ কোটি টাকার ঋণ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু উদ্ধার কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

​৩. রিটেইল, কার্ড ও ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে লক্ষণীয় সাফল্য

​শুধু প্রথাগত আমানত কিংবা ঋণ আদায়ই নয়, ব্যাংকিং সেবার অন্যান্য খাতেও গতি এসেছে:

  • কার্ড ও কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট: ২০২৬ সালের জুন শেষে কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখে। বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে ১৬৮ শতাংশ!
  • ইসলামিক ব্যাংকিং: ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ইসলামিক ব্যাংকিং গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং এই খাতের আমানত বেড়েছে ৪৭.৩ শতাংশ
  • রেমিট্যান্স প্রবাহ: বছরের প্রথম ছয় মাসে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৭ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলার-এ উন্নীত হয়েছে।

​ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য

​আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মনসুর মোস্তফা ব্যাংকের এই সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে ইতিবাচক অভিমত ব্যক্ত করে বলেন:

"চলতি বছরের প্রথম থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকে যে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। আমানত, কার্ড ও ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি আমরা সিআরআর, এসএলআর এবং এডিআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও তারল্য সংক্রান্ত সূচকেও সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে পেরেছি। খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আগামী দিনে আমাদের লক্ষ্য হবে গ্রাহকের আস্থা আরও সুদৃঢ় করা, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার পরিধি আরও বাড়ানো।"


​শেষ কথা

​আমানত বৃদ্ধি, ঋণ পুনরুদ্ধার এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতের এই অগ্রগতি প্রমাণ করে যে, আইএফআইসি ব্যাংক গ্রাহকবান্ধব সেবা ও সঠিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছে। ব্যাংকিং সেক্টরে এমন দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন নিঃসন্দেহে গ্রাহকদের জন্য এক আশার বার্তা।

Post a Comment

0 Comments